ইসরাইল সফর করছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ক। এরই মধ্যে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
সাক্ষাতে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে গাজায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের প্রসঙ্গে কথা হয়েছে। নেতানিয়াহুর কাছে গাজায় স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার অনুমতি চেয়েছেন ইলন মাস্ক। বলেছেন, ইসরাইলের অনুমোদন ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ দেবেন না তিনি।
রয়টার্স জানায়, সোমবার (২৭ নভেম্বর) ইলন মাস্ক ব্যক্তিগত সফরে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে পৌঁছান। এরপর প্রেসিডেন্ট হারজগ ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এরপর মাস্ককে নিয়ে কেফার আজা কিবুৎজ এলাকা পরিদর্শন করেন নেতানিয়াহু। গত মাসে যেসব হাসাম হামলা চালিয়েছিল কেফার আজা কিবুৎজ অন্যতম। হামাসের হামলায় হতাহতদের স্বজনদের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে তার।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় মাস্কের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি এক্সে (টুইটার) ইহুদিবিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ জানান এবং ইহুদিবিদ্বেষ বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। এরপর গত মাসে ইসরাইল-হামাস সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইলন মাস্ক গাজায় ইন্টারনেট সেবা দেয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু সে সময় ইসরাইল এর তীব্র প্রতিবাদ জাানায়। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো হুমকি দিয়ে জানান, মাস্ক এই উদ্যোগ নিলে ইসরাইল স্টারলিংকের সঙ্গে সব ধরনের অংশীদারিত্ব বর্জন করবে। তিনি দাবি করেন, হামাসের যোদ্ধারা স্টারলিংকের সংযোগ ব্যবহার করে চলমান সংঘাতে সুবিধা আদায় করে নেবে।
শ্লোমো বলেন, স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলোকে ইসরাইলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে হবে। এর মধ্যে গাজা উপত্যকাও অন্তর্ভুক্ত। এ ঘটনার প্রায় এক মাস ইসরাইল সফরে এসেছেন স্টারলিঙ্ক প্রধান।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, সফরের মধ্যে নেতানিয়াহুর সাথে এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) লাইভ চ্যাটে কথা বলেন মাস্ক। সেখানে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে একমত হয়েছেন যে, গাজার উন্নত ভবিষ্যতের জন্য হামাসকে ধ্বংস করা ছাড়া ‘কোন বিকল্প নেই’।
টুইটার প্রধান আরও বলেন, তিনি চলমান যুদ্ধের পরে গাজা পুনর্গঠনে সাহায্য করতে চান। তিনি জানান, গাজা উপত্যকার পুনর্বাসন হবে ভবিষ্যতে যুদ্ধ এড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।