রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
Title :
ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৬ গাড়িতে আগুন সব গণঅভ্যুত্থানের সুবিধা নিয়ে পরে প্রতারণা করেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডিসেম্বরে নয়, হাসিনাকে কালই দেশে দেখতে চায় জনগণ: চিফ প্রসিকিউটর বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিত উদ্যোগ, মাঠে সেনাবাহিনী-বিজিবি বন্যার তিন দিন পর জোরদার ত্রাণ, তবুও সংকটে চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষ বাইরাইনে অবস্থিত মার্কিন ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে, তালিকা হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী আদর্শ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষার সংকটেই বাড়ছে অবক্ষয়: রিজভী

আজ বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ দিবস

  • Update Time : রবিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৭৫ Time View

কুষ্ঠ বা হ্যানসেন রোগটি ম্যাইকো ব্যাকটেরিয়াম লেপরের কারণে ঘটে থাকে। এটি ত্বক ও স্নায়ুর একটি সংক্রমণ। এই ব্যাধি ত্বক, শ্লৈস্মিক ঝিল্লি, পেরিফেরাল স্নায়ু, চোখ ও শ্বাসযন্ত্র প্রভাবিত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কুষ্ঠ সম্ভবত শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে ও পোকামাকড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আবার অনেকেই মনে করেন, এটি ছোঁয়াচে বলে একজনের থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে।

কুষ্ঠ রোগ কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবুও এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সীমাহীন যন্ত্রণা। কুষ্ঠ রোগী লজ্জা, ভয় ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে এই ব্যাধি লুকিয়ে রাখেন। রোগী নারী হলে এই সমস্যা আরও বেশি বেড়ে যায়। শ্বেতী রোগে আক্রান্ত নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এ রোগটি সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে এমন হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ১০ বছর ধরে দেশে বছরে গড়ে তিন হাজার কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। এ রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো- মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও মেহেরপুর। মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকাসহ ছয় জেলা। নিম্ন ঝুঁকিতে আছে আরও ৩৪টি জেলা।

২০২২ সালে দেশে ২ হাজার ৯৭৪ জনের কুষ্ঠ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ২০০ জন প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন।দেশে ২০২১ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ২ হাজার ৮৭২ জন। তাদের মধ্যে রোগটির কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৬৫ জন। ২০২০ সালে দুই হাজার ৭২৪ রোগীর মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ১৩৭ জন। ২০১৯ সালে মোট কুষ্ঠরোগী ছিলেন ৩ হাজার ৬৩৮ জন এবং প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৫২ রোগী। ২০১৮ সালে মোট রোগী ছিলেন ৩ হাজার ৭২৬ জন। তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী হয়েছেন ২৯৭ জন। ২০১৭ সালে ২ হাজার ৭৫৭ রোগীর মধ্যে ২৯৬ জন, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ১ রোগীর মধ্যে ১৯২ জন এবং ১৯৯৮ সালে ১১ হাজার ৯১ রোগীর মধ্যে ১ হাজার ২৫২ জন প্রতিবন্ধি হয়েছেন।

এদিকে গত বছর জাতীয় কুষ্ঠ রোগ সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে কুষ্ঠরোগ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোকে কুষ্ঠরোগের উন্নত ওষুধ তৈরির আহ্বান জানান।

১৯৫৪ সাল থেকে জানুয়ারি মাসের শেষ রবিবার এই রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। কুষ্ঠ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন রোগগুলোর একটি হলেও, দেশে এখনো এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category