বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। টানটান উত্তেজনার এই মাহেন্দ্রক্ষণে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বড় ধরনের রাজনৈতিক পূর্বাভাস দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত ও এনসিপিসহ তাদের সমমনা ১১ দলীয় জোট এখন রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে রাজধানীর বেরাইদ এলাকার এ কে এম রহমতুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম আজকের দিনটিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই সূর্যোদয় শুধু একটি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক। আমি দেশের প্রতিটি নাগরিককে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে অনুরোধ করব, আপনারা ঘর থেকে বের হয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আপনাদের একটি ভোটই আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণ করবে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোট এবারের নির্বাচনে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছে। মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটগতভাবে নির্বাচন করায় বিরোধী শিবিরের ভোট ব্যাংক অনেকটা সুসংহত হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম এই ঐক্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে পারছি। দেশের সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। জামায়াত, এনসিপি এবং আমাদের মিত্র দলগুলো মিলে যে ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে, তা আজ সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ইনশাআল্লাহ, ব্যালটের মাধ্যমে আজ নীরব বিপ্লব ঘটবে।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আগের রাতের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার দিবাগত রাতে দেশের বেশ কিছু জায়গায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমরা প্রতিটি কেন্দ্রের খবর রাখছি। রাতের অন্ধকারে যারা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছে, দিনের আলোয় ভোটারদের জোয়ারে তারা ভেসে যাবে। ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নেতা-কর্মীরা এবং সাধারণ জনগণ মাঠ ছাড়বে না। আমরা জয়ী হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেব।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর নজর রাখছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি জনগণের ভোটের প্রতিফলন সঠিকভাবে ঘটে এবং নির্বাচন কোনো প্রকার কারচুপি ছাড়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে জোট যেকোনো ফলাফল সানন্দে মেনে নেবে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু সেটি হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আজকের নির্বাচনে রাজধানীসহ সারাদেশের কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি দেখা গেছে। পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির সমন্বয়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সকাল থেকে বেরাইদ ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে এনসিপির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটযুদ্ধ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলীয় জোট যদি সত্যিই সরকার গঠনের জাদুকরী সংখ্যা অর্জন করতে পারে, তবে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের এই মেলবন্ধন ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বেরাইদের এ কে এম রহমতুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় নাহিদ ইসলামের চোখেমুখে ছিল জয়ের দৃঢ় প্রত্যয়। তাঁর এই বক্তব্য ১১ দলীয় জোটের তৃণমূল কর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। এখন সবার অপেক্ষা বিকেল সাড়ে ৪টার পর শুরু হতে যাওয়া ভোট গণনার। ব্যালট বক্স খোলার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে, নাহিদ ইসলামের এই দ্বারপ্রান্তে থাকার দাবি কতটা বাস্তবসম্মত।