বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
Title :
নারী এমপিদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য, সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা ২০টি বাতিলের সুপারিশ করল সংসদীয় কমিটি: ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টেঁটাযুদ্ধ, নারীসহ আহত ১০ জুলাই সনদ অস্বীকারকারীরা স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী: মজিবুর রহমান মঞ্জু এক দিনে ৪০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের বিসিবি থেকে আরও এক পরিচালকের পদত্যাগ শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের কোনো চিঠি আসেনি, এটা ভিত্তিহীন: চিফ প্রসিকিউটর ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইসরায়েলে ইরানের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে দোকান-শপিং মল

জুলাই সনদ অস্বীকারকারীরা স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী: মজিবুর রহমান মঞ্জু

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ Time View

ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অন্যতম অর্জন ‘জুলাই সনদ’ অস্বীকার করা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার বিরোধিতা করার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজয়নগরে অনুষ্ঠিত এবি পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশে মঞ্জু বলেন, “জুলাই সনদ শুধু একটি প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক নথি নয়। এটি বাংলাদেশের অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের ইতিহাসের দলিল। যারা এটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা স্বাধীনতার চেতনা এবং শহীদদের ত্যাগকে অস্বীকার করছে।”

তিনি বলেন, বিএনপির কথাবার্তা ও কাজের মধ্যে মিল নেই। “বিবেচনা করুন, একদিকে তারা বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, আর অন্যদিকে এটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলছে। এই দ্বিচারিতা জনগণ এবং রাজনীতির ইতিহাসকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা দেখছি, সরকারি আদেশ ও সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন তুলছে বিএনপি কার পরামর্শে আদেশ হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং আদেশের ফলাফলের দিকে নজর দিতে হবে।”

মঞ্জু আরও বলেন, “ছয়ই আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েছিলেন। তখন প্রযোজ্য সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব ছিল। বিএনপি সেই সময়ে কী করেছিল? তারা আজ প্রশ্ন তুলছে, অথচ তখন প্রক্রিয়া ছিল সঠিক। একইভাবে, ড. ইউনুসের পরামর্শে নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রশ্নের শেষ নেই, কিন্তু জনগণের স্বার্থ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছিল মূল বিষয়।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি জুলাই অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়, দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস পুনরায় সংকটে পড়বে। আমাদের নেতা-কর্মীরা এবং অভ্যুত্থানের শহীদরা যা অর্জন করেছেন, তা জনগণের জন্য। যারা জনগণের অধিকারের প্রশ্ন উপেক্ষা করবে, তাদের জনগণের সামনে জবাবদিহি করতে হবে।”

মঞ্জু বিএনপিকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা ক্ষমতার পেছনে জনতাকে ভুলে যাচ্ছেন। আমাদের আন্দোলনের স্লোগান ‘ক্ষমতা না, জনতা-জনতা, জনতা’ আজও প্রাসঙ্গিক। জনগণের পক্ষ থেকে রাজপথে আবারও আন্দোলন করা হবে। যারা জুলাই অভ্যুত্থান এবং জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তারা দেশের গণতন্ত্রের শত্রু।”

তিনি দেশের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের সংগ্রাম পাকিস্তানের সংবিধান ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়েছিল। লাখো শহীদের রক্তে গড়া স্বাধীনতার পতাকা আমাদের লাল-সবুজের পতাকা আজও রাজপথে ও জনমনে উড়ছে। জুলাই সনদ হলো সেই বিজয়ের দলিল। এটি অস্বীকার করা মানে স্বাধীনতার চেতনা ও শহীদদের ত্যাগকে কলঙ্কিত করা।”

বক্তব্যে মঞ্জু আরও বলেন, “আপনারা ক্ষমতায় গেলে জনগণের স্বার্থ ভুলে যাবেন আমরা সেই সম্ভাবনা লক্ষ্য করছি। প্রশাসক নিয়োগ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার লঙ্ঘন এবং দ্বিচারিতার কারণে জনতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। আমাদের আন্দোলনের মূল স্লোগান ‘ক্ষমতা না, জনতা, জনতা, জনতা’ আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।”

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বারবার ‘জনতা, জনতা’ এবং ‘ক্ষমতা না, জনতা’ স্লোগান দেন। তারা লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে মঞ্জুর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

বক্তারা বলেন, আবারও রাজপথে নেমে সংগ্রাম চালানো হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের রক্ত এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা সর্বদা প্রস্তুত।

বিক্ষোভ সমাবেশে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্দোলনের স্মৃতি জনমানসে নতুন করে তুলে ধরেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category