লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফিরোজ হায়দার লাভলু। তার দাবি, নির্বাচনী জনসভায় যোগদানের সময় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
সোমবার রাতে আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ হায়দার লাভলু জানান, সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার থেকে ফেরার পথে সাপটিবাড়ি স্কুল মাঠে তার নির্বাচনী জনসভা ছিল। তার বহরের পেছনে থাকা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকরা যখন সভাস্থলের দিকে আসছিলেন, তখন বিএনপির একটি মিছিল উল্টো দিকে অতিক্রম করার সময় উত্তেজনা ছড়ায়।
লাভলু অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি কর্মীরা আমাদের সমর্থক মহির উদ্দিন ও অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক নূর ইসলাম সরকারকে প্রথমে আটক করে। এরপর তাদের মোটরসাইকেলে থাকা দাঁড়িপাল্লার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরে দুর্বৃত্তরা দুটি মোটরসাইকেল হামলা করে চলে যায়।
তিনি আরোও বলেন, শুধু সাপটিবাড়ি নয়, একই দিন দুপুরে কমলাবাড়ি ইউনিয়ন ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন জামায়াত প্রার্থী। তিনি বলেন, সেখানেও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকায় আমাদের দুজন সমর্থককে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়েছে। আমরা প্রায়ই নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। আজকের জনসভায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে জনতাকে বিষয়টি জানাইনি। নেতাকর্মীরা এবং আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি। কিন্তু একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ধরনের অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রোকনউদ্দিন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে হয়তো ফোনে জানানো হয়ে থাকতে পারে, সেটি আমাকে জেনে নিশ্চিত হতে হবে। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুল হক বলেন, ফোনে খবর পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।