জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে অংশ নিচ্ছেন।
বুধবার সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তার শঙ্কায় গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, “কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে হেলমেট ব্যবহার করছি।”
আরও এক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “কালকে আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছে অথচ প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা চলমান রেখেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে বসে পরীক্ষা দিতে শঙ্কা বোধ হওয়ায় হেলমেট পড়ে এক্সাম দিতে আসছি।”
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি, যা এখন অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।