যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে ৫টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন এবং ১টি আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার রাতের প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যশোর-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা আজিজুর রহমান ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১৬টি ডাকযোগের ভোট রয়েছে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হন।
যশোর-২ আসনে জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাবিরা সুলতানা পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট। এই আসনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে এবং জামায়াত প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। যশোরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তাঁর জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
যশোর-৪ আসনে জামায়াতের গোলাম রছুল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭২ ভোট। এছাড়া যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
যশোর-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদ ইকবাল কলস প্রতীকে ৮৫ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়েছেন এবং বিএনপির মূল প্রার্থী রশিদ আহমদ পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৪১৯ ভোট। যশোর-৬ আসনে জামায়াতের মুক্তার আলী ৯২ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৭৯ ভোট।
এই ৬টি আসনে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যক ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। মোট ১৩ হাজার ৬৪২ জন ভোটার হ্যাঁ এবং ২ হাজার ৫৫৬ জন ভোটার না ভোট প্রদান করেছেন। ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজয়ীদের সমর্থকরা আনন্দ প্রকাশ করছেন এবং প্রশাসন কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে।