মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধন নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা জানালেন মেজর হাফিজ

  • Update Time : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ Time View

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মন্ত্রিসভা কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহল নিরসনে এবার মুখ খুললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ভোলা-৩ আসন থেকে সদ্য বিজয়ী মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

তিনি জানিয়েছেন, আগামীর মন্ত্রিসভা গঠিত হবে অভিজ্ঞ প্রবীণ এবং উদ্যমী নবীন নেতৃত্বের এক চমৎকার সমন্বয়ে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত এম এ জি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হবে ত্যাগ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। তাঁর মতে, গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তারাই অগ্রাধিকার পাবেন।

যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো ইতিহাস নেই এবং যারা জনগণের কাছে আস্থাশীল ও গ্রহণযোগ্য, তাদেরকেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আনা হবে। যোগ্যতার মূল্যায়নে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে একটি গতিশীল ও দক্ষ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে, যা দেশের বর্তমান সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেন মেজর হাফিজ। এই সাফল্যের জন্য তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের দুর্দিনে সেনাবাহিনী যেভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা ছাড়া এই নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব হতো না।

তারা আবারও প্রমাণ করেছে সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের প্রশংসা করেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান যেভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুবাতাস নিয়ে এসেছে।

এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, বিএনপি প্রতিহিংসার বদলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করে এই বীর বিক্রম বলেন, এতদিন রাজনীতিবিদরা কেবল নিজেদের গুণগান গাইতে গিয়ে প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করেছেন।

যদি ১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন বিদ্রোহ না করত, তবে এ দেশে কোনো স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হতো না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সম্মান এবং প্রকৃত ইতিহাস পুনরুদ্ধারে কাজ করবে।

আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মেজর হাফিজের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় যেমন প্রবীণ ও ঝানু রাজনীতিকদের দেখা যাবে, তেমনি তরুণ প্রজন্মের যোগ্য প্রতিনিধিদেরও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category