ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ ছাপিয়ে এখন বইছে জয়-পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের সবগুলোরই বেসরকারি ফলাফল ইতোমধ্যে হাতে এসেছে। এবারের নির্বাচনে ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ২০টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৩টি আসনে জয়লাভ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা বাকি ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন, যার মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসনে চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ ছাপিয়ে এখন বইছে জয়-পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ। রাজধানী ঢাকার ২০টি আসনের সবগুলোরই বেসরকারি ফলাফল ইতোমধ্যে হাতে এসেছে। এবারের নির্বাচনে ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ২০টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৩টি আসনে জয়লাভ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা বাকি ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন, যার মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসনে চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
নিচে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের বিস্তারিত ফলাফল এবং বিজয়ীদের ভোটের ব্যবধান তুলে ধরা হয়েছে।
১. ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ)
এই আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৩,৭৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,১২,৬২২ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৬১,১৫৯ ভোট।
২. ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-সাভার একাংশ)
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আমানউল্লাহ আমান ১,৬৩,০২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮,৬৫৫ ভোট। আমানউল্লাহ আমান ৮৪,৩৬৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন।
৩. ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ)
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৯৮,৭৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২,২৩২ ভোট। ব্যবধান ১৬,৫৫৩ ভোট।
৪. ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী)
এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭,৩৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪,৪৪৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান মাত্র ২,৯২০ ভোট।
৫. ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা)
জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন ৯৬,৬৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীকে (৮৭,৪৯১ ভোট) হারিয়েছেন। জয়ের ব্যবধান ৯,১৫০ ভোট।
৬. ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি)
বিএনপির তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫,৬৯৭ ভোট। ব্যবধান ২৩,১৫৩ ভোট।
৭. ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার)
বিএনপির হামিদুর রহমান ১,০৪,৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮,৪৮৩ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৬,১৮৩ ভোট।
৮. ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল)
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস ৫৯,৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫,২৩৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।
৯. ঢাকা-৯ (খিলগাঁও-সবুজবাগ)
বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১,১১,২১২ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩,৪৬০ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৫৭,৭৫২ ভোট।
১০. ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান)
বিএনপির শেখ রবিউল আলম ৮০,৪৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. জসীম উদ্দীন সরকার পেয়েছেন ৭৭,১৩৬ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৩,৩০০ ভোট।
১১. ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা)
এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক এনসিপির নাহিদ ইসলাম। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১,৮৩৩ ভোট। ব্যবধান ২,০৩৯ ভোট।
১২. ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-রমনা একাংশ)
জামায়াতে ইসলামীর মো. সাইফুল আলম ৫৩,৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক (কোদাল প্রতীক) পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট। ব্যবধান ২২,৮১০ ভোট।
১৩. ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর)
বিএনপি জোটের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীকে ৮৮,৩৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান ২,৩২০ ভোট।
১৪. ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহআলী)
জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম ১,০১,১১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩,৩২৩ ভোট। ব্যবধান ১৭,৭৯০ ভোট।
১৫. ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল)
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫,১৩১ ভোট পেয়ে বড় জয় পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩,৫১৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান ২১,৬১৪ ভোট।
१६. ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর)
জামায়াতের মো. আব্দুল বাতেন ৮৮,৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির আমিনুল হককে (৮৫,৪৬৭ ভোট) ৩,৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
১৭. ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৪,৩৯৯ ভোট।
১৮. ঢাকা-১৮ (উত্তরা-তুরাগ)
বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১,৪৪,৭১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলামকে (১,১১,২৯৭ ভোট) হারিয়েছেন। জয়ের ব্যবধান ৩৩,৪১৮ ভোট।
১৯. ঢাকা-১৯ (সাভার)
বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১,৯০,৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১,২৫,২৮৩ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৬৫,৬৯৩ ভোট।
২০. ঢাকা-২০ (ধামরাই)
বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন ১,৬০,৪২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬,৩৪৩ ভোট। ব্যবধান ১,০৪,০৮৫ ভোট।
সারসংক্ষেপ: ঢাকার ২০টি আসনের এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি অধিকাংশ আসনে আধিপত্য ধরে রাখলেও জামায়াতে ইসলামী ও নতুন দল এনসিপি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
আপনি কি অন্য কোনো বিভাগের বা নির্দিষ্ট কোনো জেলার বিস্তারিত নির্বাচনী ফলাফল জানতে চান? আমি সাহায্য করতে পারি।