ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তিনি তাঁর ভোট দেন।
সকাল থেকেই এই ভিআইপি কেন্দ্রটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা কেন্দ্রে পৌঁছালে সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি অত্যন্ত সাধারণ নাগরিকের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোট প্রদান করেন। ভোটদান শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের রায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ভোট প্রদান শেষে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশবাসী আবারও কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। এই ভোট কেবল একটি সরকার গঠন নয়, বরং ফ্যাসিবাদমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন। আমি আশাবাদী যে, তরুণ ও নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই নির্বাচন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই দিনে মানুষ কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনেই ভোট দিচ্ছে না, বরং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটেও অংশ নিচ্ছে। এই অংশগ্রহণই প্রমাণ করে এদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কতটা আগ্রহী।” ড. ইউনূস ভোটারদের উৎসবমুখর পরিবেশে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার ভোট প্রদানের সময় তাঁর প্রেস সচিবসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।