সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত করল নতুন এক পালক। ২০২৬ সালের প্রথম মাসেই দেশের সীমান্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে শত কোটি টাকার ওপরের চোরাচালান পণ্য এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে বাহিনীটি।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে এসেছে বিশাল সাফল্য। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিজিবি সদস্যরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এবং অভ্যন্তরীণ তল্লাশিতে সর্বমোট ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্য সামগ্রী জব্দ করেছে।
রোববার এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফলতার খতিয়ান তুলে ধরেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
চোরাকারবারিদের অন্যতম টার্গেট মূল্যবান ধাতুর পাচার রোধে বিজিবি ছিল অতন্দ্র প্রহরী। জানুয়ারি মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে জব্দ করা হয়েছে ৯৪০.১৭৬ গ্রাম স্বর্ণ ও ১৪ কেজি ৩৩৭ গ্রাম রৌপ্য।
পোশাক ও কসমেটিকস পাচার রুখতে বিজিবির অভিযান ছিল চোখে পড়ার মতো। জব্দের তালিকায় রয়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি কসমেটিকস সামগ্রী। এছাড়া রয়েছে ২১ হাজার ২৭১টি দামী শাড়ি, প্রায় ১২ হাজার থ্রিপিস ও চাদর, এবং ৩ হাজার ৬০৫টি তৈরি পোশাক। ইমিটেশন গয়না থেকে শুরু করে থান কাপড়—কিছুই বিজিবির নজর এড়াতে পারেনি।
সীমান্তে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রোধে বিজিবির এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। গত মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি দেশি ও বিদেশি পিস্তল, ১৮৫ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদ ও ১৩টি ম্যাগাজিন, একটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং একটি শক্তিশালী মর্টার শেল ও ২৮টি দেশীয় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র।
তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিজিবি ছিল আপোষহীন। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৬ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৭৩০ গ্রাম হেরোইন ও ৮ হাজার ৯৭০ বোতল বিদেশি মদ এবং ১৯৮ লিটার বাংলা মদ।
চোরাচালানের বহুমুখী ধরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিজিবি জব্দ করেছে ২৮ লাখেরও বেশি আতশবাজি, প্রায় ৯ হাজার কেজি চা পাতা এবং ২০ হাজার কেজির বেশি সুপারি। এছাড়া ৯৭৩টি গরু ও মহিষ উদ্ধার করা হয়েছে যা অবৈধভাবে সীমান্তে আনা হয়েছিল। বিশেষ উল্লেখ্যযোগ্য যে, একটি বিরল কষ্টি পাথরের মূর্তিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বিজিবি।
সীমান্তের কঠোর নজরদারির ফলে জানুয়ারি মাসে ১১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ জন ভারতীয় এবং ১৫৯ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক করে আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, চোরাচালানে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭২ জন চোরাচালানিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে বিজিবি আগামী দিনগুলোতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করবে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর এই কঠোর অবস্থান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।