মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

শপথের আগেই প্রস্তুত মিন্টু রোড: নতুন মন্ত্রিসভার জন্য প্রস্তুত ৩৭টি সরকারি বাসভবন

  • Update Time : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ Time View

দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের আগমণী হাওয়া বইছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এখন সবার দৃষ্টি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে। এই প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ৩৭টি সরকারি বাসভবন পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত এই বাড়িগুলো মূলত রাজধানীর মিন্টু রোড, ধানমন্ডি ও গুলশান এলাকায় অবস্থিত। মিন্টু রোড ঐতিহ্যগতভাবে মন্ত্রিপাড়ার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ধানমন্ডিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত আবাসন এবং গুলশানে কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বাড়িগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আদিলুর রহমান খান বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাড়ি বসবাসের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আরও কয়েকটি বাড়ি সংস্কার ও প্রস্তুত করার কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করার সাথে সাথেই তাঁরা এই বাসভবনগুলোতে উঠতে পারবেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাসভবন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এখন তুঙ্গে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচনের বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে জয়ী দল বিএনপির সাথে আলোচনা করা হবে। তাদের নির্দেশনা ও অভিপ্রায় অনুযায়ীই ঠিক করা হবে দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি কোথায় হবে। উপদেষ্টার ভাষায়, উনারা যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী সরকারের পক্ষ থেকে নিজেদের কাজের মূল্যায়নও করেন আদিলুর রহমান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমান সরকার একটি ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা গত ১৮ মাস জনগণের স্বার্থে এবং দেশের প্রয়োজনে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। গত সাড়ে ১৫ বছরের যে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা জেঁকে বসেছিল, সেখান থেকে দেশকে একটি নতুন গতিশীল ধারায় নিয়ে আসাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় জনগণের কাছে আমাদের কাজের দায়বদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি।

সম্প্রতি দুর্নীতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন, টিআইবির রিপোর্টের সাথে জনমতের সবসময় মিল থাকে না।

আদিলুর রহমানের দাবি, যারা রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তাদের সাথে কথা বললে সংস্কারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। কিছু জায়গায় সংস্কার কাজ হয়তো শতভাগ সম্পন্ন হয়নি, তবে যে ভিত্তি গড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচিত সরকার এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণপূর্ত উপদেষ্টা বলেন, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ খাতেই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও সব কাজ এখনো শেষ হয়নি, তবুও একটি গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা করার ক্ষেত্রে এই ১৮ মাসের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সূর্যের উদয় হতে যাচ্ছে এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য বাসভবন প্রস্তুত রাখার মধ্য দিয়ে সেই যাত্রার প্রস্তুতি এখন সম্পন্ন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category