শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
Title :
ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জন নিহত, ৬ গাড়িতে আগুন সব গণঅভ্যুত্থানের সুবিধা নিয়ে পরে প্রতারণা করেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডিসেম্বরে নয়, হাসিনাকে কালই দেশে দেখতে চায় জনগণ: চিফ প্রসিকিউটর বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিত উদ্যোগ, মাঠে সেনাবাহিনী-বিজিবি বন্যার তিন দিন পর জোরদার ত্রাণ, তবুও সংকটে চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষ বাইরাইনে অবস্থিত মার্কিন ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইরান তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে, তালিকা হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী আদর্শ শিক্ষক ও মানসম্মত শিক্ষার সংকটেই বাড়ছে অবক্ষয়: রিজভী

বন্যার তিন দিন পর জোরদার ত্রাণ, তবুও সংকটে চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষ

  • Update Time : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ Time View

গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন দিন পানিবন্দি থাকলেও দুর্গতদের অনেকে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ পাননি। বিদ্যুৎহীনতা, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর শনিবার সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর সরকার, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করে। সরকারি ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় প্লাবিত এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেন এবং শুকনো খাবার ও আর্থিক সহায়তা দেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শুক্রবার সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

চট্টগ্রামের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, জেলা প্রশাসকের অনুরোধে সেনাবাহিনীর ১০ ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেনাসদস্যরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সাতকানিয়ার দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় চাল, চিড়া, মুড়ি, বিশুদ্ধ পানিসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, “অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে ঘরবন্দি। বাজারে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সবাই খাদ্যসংকটে পড়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ত্রাণ পৌঁছানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।” সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে এই উদ্ধার কাজ চলছে।

শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ত্রাণ কার্যক্রমও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আনোয়ারা ও চট্টগ্রাম নগর থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী দল বাঁশখালীর দুর্গম গ্রামে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে।

বাঁশখালীর কাথারিয়া এলাকার ত্রাণকর্মী নাজিম উদ্দীন ছোটন বলেন, এখানে পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

বাহারছড়ার বাসিন্দা নুর আনোয়ার বলেন, গত দুই দিন কেউ আসেনি, আজ অনেকেই এসেছেন। তবে অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্গত মানুষও যেন সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। তিনি বিত্তবানদেরও দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category