আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ যখন উত্তপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক বিতর্কের ঝড় তুলেছেন দেশের বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো দাবি উঠেছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নারী সমাজকে অবমাননা করার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সংসদ সদস্য পদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একদল বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মী এই লিখিত আবেদন জানান
আবেদনকারী নারী নেত্রীদের দাবি, জামায়াত আমির সম্প্রতি তাঁর বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় নারী শ্রম এবং কর্মজীবী নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য কেবল সংবিধানপ্রদত্ত নারীর অধিকারের পরিপন্থীই নয়, বরং এটি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও আচরণবিধিরও চরম লঙ্ঘন।
সিইসি’র কাছে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে নারী অধিকারকর্মীরা কেবল প্রার্থিতা বাতিলই নয়, বরং ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন।
১. নির্বাচনী আচরণবিধি ও নৈতিকতা ভঙ্গের দায়ে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা অবিলম্বে বাতিল করা।
২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের নিয়ে দেওয়া তথাকথিত অবমাননাকর বক্তব্যটি জনসমক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া।
৩. দেশের বিশাল নারী শ্রমিক গোষ্ঠী এবং পেশাজীবী নারীদের কাছে তাঁর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৪. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কোনো বক্তব্য না দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট ও লিখিত অঙ্গীকার প্রদান।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখবে। নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর বক্তব্য যদি জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গ ও গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে, তবে কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য যদি প্রমাণিত হয়, তবে এটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দেশের পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক নারী ভোটারের মাঝে এই ইস্যুটি বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনৈক নারী নেত্রী বলেন, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নারীদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে, সেখানে একজন শীর্ষ নেতার কাছ থেকে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নারীদের হেয় করার সাহস না পায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে এই আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক লড়াইকে নতুন দিকে মোড় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত কমিটি গঠন করবে নাকি সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে।