আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে উৎকণ্ঠা ও আলোচনা চলছে, তার বিপরীতে এক অভয়বাণী শোনালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রংপুর সফরে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবারকার নির্বাচনে কারচুপির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ রাখা হবে না।
নির্বাচনী ময়দানে স্বচ্ছতা আর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন। রোববার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঘোষণা করেছেন যে, এবারের জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো শঙ্কা নেই। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম বা ‘কার্ড চুরি’র খবর পেলেই যেন দ্রুত প্রশাসনকে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এবারের নির্বাচনে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। যদি কোথাও কোনো কারচুপি বা অনিয়মের খবর পান, আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জানান। আমি কথা দিচ্ছি, মুহূর্তের মধ্যেই কঠোর ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি ‘উৎসবমুখর’ ও ‘বিশ্বাসযোগ্য’ (Credible) নির্বাচন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
রংপুর অঞ্চলের মানুষের চিরচেনা শান্তিপ্রিয় স্বভাবের কথা স্মরণ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এখানকার মানুষ নিরীহ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি মনে করেন, অন্য এলাকার তুলনায় রংপুরে নির্বাচনের আমেজ হবে অনেক বেশি স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর।
এসময় তিনি এখানকার জনগণের ধৈর্য ও শৃঙ্খলাবোধের কারণে নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপদেষ্টা রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বুথ দখল বা জাল ভোট রোধে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি ‘ফ্রি ও ফেয়ার’ নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই রংপুর সফর এবং কড়া হুঁশিয়ারি মূলত ভোটারদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর এই ‘দ্রুত অ্যাকশন’ নেওয়ার ঘোষণা রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে এক ধরনের শীতল পরশ হিসেবে কাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, ১৩ই ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে এই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন কতটা ঘটে।