বরিশালে বাড়ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ক্রমেই বাড়ছে। সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।
মাঠজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। বেলুন, ধানের শীষ প্রতীক ও দলীয় রঙে সাজানো হয়েছে বেলস পার্ক মাঠ। ব্যানার–ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
বুধবার দুপুর ১২টায় এখানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।
ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। অনেকেই ফজরের নামাজ শেষে মাঠে অবস্থান নেন। নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগান নিয়ে মাঠে প্রবেশ করছেন।
ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন পর নেতা বরিশালে আসছেন,তরুণদের প্রত্যাশার প্রতিফলন আজকের জনসমাগম।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে নৌপথে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মজিবর মোল্লা বলেন, কষ্ট হলেও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাই মাঠে আছে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম বলেন, নারীরাও এই আন্দোলনের অংশ,শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়েই তারা সমাবেশে এসেছেন।
সমাবেশস্থলে প্রস্তুতিও সম্পন্ন। মাঠের উত্তর পাশে বড় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নারী নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো এলাকা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তারেক রহমানের বরিশাল আগমন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা পরিবর্তন ও গণতন্ত্র চায়।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।