গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) রুবায়া এলাকায় একটি কোলটান খনি ধসে নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির নর্থ কিভু প্রদেশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার নর্থ কিভু প্রদেশের বিদ্রোহীদের নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে খনি এলাকার মাটি নরম ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গর্তের ভেতরে কাজ করা অবস্থায় শ্রমিকরা মাটির নিচে চাপা পড়েন।
মৃতের সংখ্যা নিয়ে অস্পষ্টতা মুখপাত্র মুইসা দুই শতাধিক নিহতের কথা জানালেও গভর্নরের এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা অন্তত ২২৭ জন। দুর্ঘটনার পর কিছু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে খনি উদ্ধার হওয়া রুবায়া খনিটি ২০২৪ সাল থেকে এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্বের মোট কোলটান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ আসে এই খনি থেকে। এই খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে ‘ট্যান্টালাম’ নামক তাপ-সহনশীল ধাতু তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান এবং গ্যাস টারবাইন নির্মাণে অপরিহার্য।
জাতিসংঘের অভিযোগ, প্রতিবেশী রুয়ান্ডা সরকারের সমর্থনে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী খনিজ সম্পদ লুট করে তাদের কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন করছে। তবে রুয়ান্ডা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নর্থ কিভুর এই খনিগুলোতে স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকরা প্রতিদিন মাত্র কয়েক ডলারের বিনিময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাতে খননকাজ চালিয়ে থাকেন।