ঐতিহাসিক মারাকানায় বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে শেষ বাছাই ম্যাচ খেলল ব্রাজিল। কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির ইচ্ছায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চিলির বিপক্ষে। যেখানে এস্তেভাও, লুকাস পাকেতা ও ব্রুনো গুইমারেসের গোল উৎসবে সেলেসাওরা ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
চিলির বিপক্ষে আগেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল ব্রাজিল। এর আগে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ৭৪ ম্যাচে ৫২ জয় ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মারাকানার এই জয় সংখ্যাটাকে আরও সমৃদ্ধ করল আনচেলত্তির দল।
ম্যাচজুড়ে পজেশন, আক্রমণ ও শটে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখায় ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বল দখলে রেখে তারা নেয় ২২টি শট, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে চিলি নেয় মাত্র ৩টি শট, যার একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
পঞ্চম মিনিটেই ক্যাসেমিরোর হেডে গোল পায় ব্রাজিল, কিন্তু সেটি অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৩৭ মিনিটে দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। রাফিনিয়ার শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক, কিন্তু ফিরতি বলে ১৭ বছর বয়সী এস্তেভাও উইলিয়ান হেড করে জালে পাঠান। কিংবদন্তি পেলের পর সবচেয়ে কম বয়সী ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি।
প্রথমার্ধে চিলির মারিপানকে বেপরোয়া ফাউলের জন্য লাল কার্ড দেখালেও পরে ভিএআর দেখে সেটি বাতিল করে হলুদ কার্ড দেন রেফারি।
বিরতির পর একাধিক পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। বদলি হিসেবে নামা লুইস হেনরিক দারুণ নৈপুণ্য দেখান। তারই ক্রসে হেড করে ৬৪ মিনিটে ব্রাজিলকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন লুকাস পাকেতা। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা এই মিডফিল্ডার দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক অভিবাদন পান।
এরপর মাত্র চার মিনিট পর হেনরিকের শট পোস্টে লেগে ফিরলে রিবাউন্ডে গোল করেন ব্রুনো গুইমারেস। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও ৩-০ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।