মিয়ানমারের শান রাজ্যের কনকিয়ান এলাকায় বিদ্রোহীদের হামলায় সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছে। গত সপ্তাহে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালাতে গিয়ে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিদ্রোহীদের বরাত দিয়ে সোমবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদন এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম
মিয়ানমার নাউ।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার (২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) জানায়, প্রায় ২৮০ জন সদস্যের একটি একটি সেনাদল বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে পালিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় শতাধিক সেনা নিহত হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাদলটি বন্দি হওয়া এড়াতে গত ২৭ অক্টোবর কনকিয়ান এলাকা থেকে তারা পালায়। এরপর ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ কোকাং অঞ্চলের শি শান এলাকায় ২০ সেনাকে এবং পরের দিন একই এলাকায় কমপক্ষে ৭০ জনকে হত্যা করে এমএনডিএএ বাহিনী। এর আগে আরও অন্তত ৩৯ সেনা হত্যা করে বিদ্রোহীরা।
মিয়ানমার নাউ বলছে, সেনা নিহত হওয়ার একটি ভিডিও তারা হাতে পেয়েছে। তাতে মিয়ানমারের সামরিক পোশাক পরা অসংখ্য সেনার মরদেহ দেখা যাচ্ছে। লাশগুলো রক্তেভেজা এবং সেগুলোর পাশে তাদের অস্ত্রসশস্ত্রও রয়েছে।
এ ঘটনার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে এমএনডিএএ। তাতে দেখা গেছে, তারা বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনা নিহত ঘটনার আগে গত ২৮ নভেম্বর এমএনডিএএ বাহিনীর কাছে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর পুরো একটি ব্যাটালিয়ন আত্মসমর্পণ করে। জবাবে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাটিতে বিমান হামলা পরিচালনা করে সেনাবাহিনী।
যুদ্ধ অঞ্চল ছাড়াও বেসামরিক এলাকাগুলোতেও তারা হামলা চালায়। এতে ১ ডিসেম্বর নামখাম এলাকায় অন্তত একজন নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়।
এমএনডিএএ বাহিনীর অভিযোগ, বিমান হামলায় সরকারি বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। শুধু তা-ই নয়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে নামখামের নাউং সান্ত ওয়ার্ডে ক্লাস্টার বোমাও ফেলেছে তারা।
গত মাসের শুরু থেকে নামখাম এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে এমএনডিএএ-এর সহযোগী টিএনএলএ বাহিনী। এর আগে এই এলাকায় সরকারি জান্তা বাহিনী একটি ঘাঁটি পরিচালনা করত।