ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইল যে অপরাধ করেছে, সে বিষয়ে অনতিবিলম্বে একটি জোরালো এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জানিয়েছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম আল থানি এ আহবান জানান।রোববার (৩ ডিসেম্বর) আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরাহমান বিন জসিম বলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তার দেশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে যাতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়েও কাজ করবে কাতার।
এর আগে, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কাতারের মধ্যস্থতায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইসরাইল ও হামাস। এ সময় ৮০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্ত করে হামাস। বিনিময়ে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে ছেড়ে দেয় ইসরাইল। গত শুক্রবার এ যুদ্ধবিরতি শেষ হয়। এর জন্য একে অন্যের ওপর দায় চাপায় হামাস ও ইসরাইল।
যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই গাজায় আবার হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। গতকাল (রোববার) গাজা কর্তৃপক্ষ জানায়, এদিন ইসরাইলি হামলায় ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এরই মধ্যে কাতার থেকে ইসরাইল তার গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের আলোচকদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এদিকে, হামাসও আর বন্দি বিনিময় নিয়ে নতুন করে আলোচনা করবে না বলে জানিয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। ইসরাইলের ভাষ্যমতে, হামাসের এ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এছাড়া দুই শতাধিক ইসরাইলিকে গাজায় জিম্মি করে হামাস। তাদের হাতে এখনও ১৩৭ জিম্মি আছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের পাল্টা হামলায় সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি নারী ও শিশু।