অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে গত তিন ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।শুক্রবার ( ১ ডিসেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে গাজা জুড়ে ইসরাইলি হামলা শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কিছু আগে এক বিবৃতি জারি করে, গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরুর কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে দাবি করা হয়েছে, হামাস ইসরাইলের ভূখণ্ডে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এছাড়া গাজা থেকে ছোড়া একটি রকেট প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে ইসরাইল। আর ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলে তীব্র বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে খবর দিয়েছে হামাস-সংশ্লিষ্ট মিডিয়া।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই গাজায় ব্যাপক বিমান হামরা শুরু করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট সময়সীমার কয়েক মিনিট আগে গাজার নিকটবর্তী ইসরাইলি কিছু এলাকায় রকেট হামলার সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে।
যদিও হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এর আগে, যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে সপ্তম দফায় ৮ ইসরাইলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পান আরও ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দি। ১০৫ ইসরাইলি জিম্মির বিনিময়ে মোট ২৪০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের হামলা চালায় হামাস। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের এ হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এছাড়া দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ইসরাইলে থেকে ধরে গাজায় নিয়ে জিম্মি করে হামাস। জবাবে ৭ অক্টোবর থেকেই গাজাকে অবরুদ্ধ করে নির্বিচার বোমা হামলা শুরু করে ইসরাইল। পাশাপাশি তারা গাজায় স্থল অভিযানও চালাতে থাকে।
গাজা সরকারের তথ্যানুযায়ী, অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোকজন।