জ্বালানির অভাবে গাজার যত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সেগুলোর সব বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি টেলিকম সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্যালটেল। ফলে বিশ্ব থেকে আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। খবর আল জাজিরার।বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ফিলিস্তিনি টেলিকম সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্যালটেল জানিয়েছে, গাজার টেলিফোন সংযোগ, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনিও জানিয়েছেন, জ্বালানির অভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গাজা আবারও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় আবারও সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ সেখানে কোনো জ্বালানি নেই।
বিশ্ব থেকে গাজা বিছিন্ন হওয়ায় ইসরাইলি বাহিনী সেখানে কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত করবে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
এদিকে ইসরাইলের নির্বিচার বোমা হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ ভবন মিশে গেছে মাটিতে। জীবন বাঁচাতে উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। সেই নির্দেশনা মেনে নিজ বাড়ি-ঘরসহ সবকিছু ছেড়ে দক্ষিণ দিকে চলে আসেন লাখ লাখ মানুষ। উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ শেষে এবার দক্ষিণাঞ্চলে নজর দখলদার ইসরাইলি সেনাদের। অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে বিমান থেকে লিফলেট ফেলেছে ইসরাইল। এতে বলা হয়, হামাসের কার্যক্রমের কারণে বনি সুহাইলা, খুজা, আবাসান এবং কারারায় শহরে ইসরাইলি সেনাদের অভিযান চালাতে হবে। সেখান থেকে সরে যেতে হবে বাসিন্দাদের। ইসরাইলের এমন নির্দেশে আতংকে আছেন স্থানীয়রা।
গাজার অভ্যন্তরে স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহুর সেনারা। উত্তরাঞ্চলে হামাসের আর নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবি করেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। দ্রুতই সেখানে থাকা সংগঠনটির পুরো কাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। যদিও হামাস দাবি করেছে ইসরাইলি সেনারা উপত্যকায় ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সীমান্তে নেতানিয়াহু বাহিনীর বেশ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর কয়েকটি ঘাঁটিতে বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এতে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।