সাইদা মুনা তাসনিমের প্রশ্নটি ছিল: ভারতের কাছে তার পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সমৃদ্ধি বিনিময়ের ক্ষেত্রে।
সাইদা মুনা তাসনিমের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর দুদেশের আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো পুনর্গঠনে সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্থল সীমানা নিয়ে বিরোধের মীমাংসা করেছি; যা আসলে একটি বিশাল ব্যাপার। আমাদের সমুদ্রসীমা নিয়ে মতবিরোধ ছিল। এটাও আমরা মীমাংসা করেছি। দুদেশের সীমানা নিয়ে এসব বিরোধ নিরসন অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের জন্য একটি ভালো উদাহরণ।’
এছাড়াও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংযোগকারী দুটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযোগকারী দুটি রেললাইনের উদ্বোধন হয়েছে; একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও উদ্বোধন হয়েছে। আমরা আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগের জন্য বাংলাদেশি বন্দর ব্যবহার করছি। এ বন্দর দিয়ে বেশি যানবাহন আসায় তারা উপকৃত হচ্ছে।’
জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, ‘তাই বলা যায়, আজ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এ উপমহাদেশে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে একটি মডেল সম্পর্ক হিসেবে দাঁড়িয়েছে।’
আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ভঙ্গুর অর্থনীতির কথা তুলে ধরে বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৭১ সালের আগে পাকিস্তানের দরিদ্র অংশ ছিল পূর্ব-পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)। তবে এখন পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১২ নভেম্বর) পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ব্রিটেন গেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই তার এ সফর।