সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছয় বছরের আয়কর প্রদানের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি এই নথি প্রকাশ করে।
শুক্রবার এসব নথি প্রকাশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান লড়াইয়ের অবসান হলো। এমন সময় এগুলো প্রকাশ হলো যখন আর মাত্র কয়েক দিন পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে রিপাবলিকানরা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে তার মধ্যে রয়েছে গোপন নথি ব্যবহার করে নিউইয়র্কের পেনথাউস ফ্ল্যাটের জালিয়াতি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য মামলা।
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ট্রাম্পের সংশোধিত আয়কর তথ্য প্রকাশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কয়েক বছরের লড়াইয়ের সমঝোতা হয় গত মাসে।
ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদের দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে খালাস পান।
২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে এখন তিনি একাধিক আইনি বাধার মুখে পড়েছেন। এই মাসের শুরুতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে সহিংসতার ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি অভিযোগ আনার জন্য।
প্রতিনিধি পরিষদের হাউজ ওয়েইজ ও মিনস কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড নিল ২০১৯ সালে ট্রাম্পের আয়কর প্রদানের তথ্য চেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রেসিডেন্টে আয়কর রিটার্নের আইন মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি কংগ্রেসের।
রিপাবলিকানরা দাবি করে আসছিল, এই পদক্ষেপের ফলে ব্যক্তিগত আয়কর প্রদানের তথ্য রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হওয়ার দিকে ধাবিত হতে পারে।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ট্রাম্প কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি নিজের আয়কর প্রদানের তথ্য প্রকাশ করেননি। প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছিলেন তিনি যাতে করে এসব তথ্য গোপন থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত কমিটির পক্ষে রায় দেয়।
কমিটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার আর্থিক নীরিক্ষা না করে আইন লঙ্ঘন করেছে ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস। এর আগে জানা গিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ বছর, ২০২০ সালে ট্রাম্প কোনও আয়কর প্রদান করেননি। যদিও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য কোটি ডলার আয় করেছে।
উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসে ফ্লোরিডা সৈকতের পাশে সাবেক প্রেসিডেন্টের বিশাল ভিলায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে ১১ হাজার নথি জব্দ করা হয়। এরমধ্যে ১০০টি দলিল গোপন বলে চিহ্নিত করা ছিল। এরমধ্যে কয়েকটিকে টপ সিক্রেট বলে লেবেল লাগানো ছিল।
এআই